ট্রাম্পের শর্ত, সুষ্ঠু হলেই মানবেন নির্বাচনের ফল
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৯-১০-২০২৬ ০২:৩০:৩৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-১০-২০২৬ ০২:৩০:৩৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ভোটের ফল ঘোষণার আগেই তা মেনে নেওয়ার বিষয়ে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে টেক্সাসের এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই কেবল ফল মেনে নেবেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ঘিরে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, ভোটাধিকার এবং পরাজয় মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভোটব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আক্রমণ এবং সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টেক্সাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফলাফল মেনে নেব, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ও দখলে নেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনগুলোর ফল আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ট্রাম্প ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে আদালত ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় তাঁর অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবারের নির্বাচন সামনে রেখেও ভোটব্যবস্থা নিয়ে তাঁর বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
টেক্সাসসহ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ভোটার নিবন্ধন ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত কঠোর বিধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। সমালোচকদের আশঙ্কা, এসব উদ্যোগের কারণে কিছু ভোটারের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান পরাজিত হলে তাঁর নির্বাচনের ফল অনুমোদন ঠেকাতে বিচার বিভাগকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। একই নামের আরেক প্রার্থী ড্যানিয়েল জে. সুলিভান থাকায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে যুক্তি দিয়েছেন তিনি।
তবে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপের পরিণতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইন, উপস্থাপিত প্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট আবদুল এল সায়েদ। তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সায়েদকে ইসলামী উগ্রবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন রজার্স। ট্রাম্পও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে সায়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাসহ সায়েদের প্রগতিশীল নীতিরও বিরোধিতা করছেন রজার্স। সায়েদের প্রচারশিবিরের দাবি, এসব আক্রমণের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক মিশিগানের আরব-আমেরিকান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া এবং নির্বাচনের ফলাফলের ওপর।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সংবাদ পরিবেশনা নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তাঁর অভিযোগ, চ্যানেলটি রিপাবলিকান প্রার্থীদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে আবদুল এল সায়েদের সাক্ষাৎকার প্রচার করায় নেটওয়ার্কটির সমালোচনা করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পিটার নাভারোও সমর্থকদের ফক্স নিউজ দেখা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনা রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রচারে তাদের প্রভাব নিয়ে বিতর্ককে সামনে এনেছে।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে ওবামা
অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। ডেট্রয়েটের এক সমাবেশে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার সমালোচনা করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
এর বিপরীতে ট্রাম্প তার প্রশাসনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগে প্রবেশ করা দেশ হিসেবে তুলে ধরছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে দুই পক্ষই অর্থনীতি, প্রশাসনের কার্যকারিতা, ভোটব্যবস্থা এবং জাতীয় পরিচয়ের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পেলে নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সুযোগ সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে, ভোটের ব্যবধান কম হলে কয়েকটি আসনে পুনর্গণনা, মামলা কিংবা ফল নিয়ে দীর্ঘ বিরোধের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে অল্প কয়েকটি আসনের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে আইনি লড়াই হবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট এবং অন্যান্য নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
নির্বাচনের আগে ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের শর্তসাপেক্ষ বক্তব্য তাই কেবল রাজনৈতিক মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা এবং পরাজয় মেনে নেওয়ার গণতান্ত্রিক রীতির প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স